নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ; চ্যাম্পিয়নশিপের অধরা ট্রফিটা অবশেষে বাংলাদেশই জিতলো। নারী সাফের ফাইনালে আজ স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শিরোপা এই প্রথমবারের মতো যাচ্ছে বাংলাদেশের ঘরে। স্মরণীয় এই বিজয়ে প্রথম গোলটি করেছেন শামসুন্নাহার। পরের গোল দুটি করেছেন কৃষ্ণা রানী সরকার। বাংলাদেশ ২–০ তে এগিয়ে যাওয়ার পর নেপালের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন অনিতা বাসনেত। নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
ফাইনাল ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টির ফলে মাঠ ভারী হয়ে যায়। তুমুল বৃষ্টির ফলে ভারী হয়ে যাওয়া মাঠেও মারিয়া, মনিকারা ছন্দময় ফুটবল খেলেছেন।মারিয়াদের পায়ে যেন ফুল হয়ে ফুটল বাংলাদেশের ফুটবল। বহুদিন পরে দর্শকরা একটি জম্পেশ ফুটবল ম্যাচ উপহার পেলো, সেই সাথে বাংলাদেশ পেলো নতুন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের তকমা।

ফাইনাল ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বাংলাদেশের গোল পাওয়ার সুযোগ ছিল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মারিয়ার দূর্দান্ত শটটি নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা সুব্বা আটকাতে পারলেও গ্লাভসে জমাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত কর্নারের বিনিময়ে সিরাত জাহানের শট
ফেরান আনজিলা।
স্ট্রাইকার সিরাত জাহান শারীরিক চোট নিয়েই আজ ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
তাই তিনি মাঠে নেমেও বেশিক্ষণ খেলতে পারেননি। ব্যথায় কাতরাতে থাকা সিরাত জাহানকে কোচ গোলাম রব্বানী ১৩ মিনিটের মাথায় তুলে নিতে বাধ্য হন। তাঁর বদলি হিসেবে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে মাঠে নামান। কিন্তু কে জানতো বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা এই শামসুন্নাহারই এগিয়ে নেবেন বাংলাদেশকে। তিনি মাঠে নামতেই খেলার গতি বেড়েছে কয়েকগুণ।

২ গোলে পিছিয়ে পড়া নেপাল তখন গোল শোধে মরণকামড় দিতে ব্যস্ত। পুরোপুরি ফিট না হওয়া সত্ত্বেও ডেঙ্গু জ্বরে অসুস্থ দলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সাবিত্রা ভান্ডারিকে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামিয়ে দেন নেপালের কোচ। সাবিত্রা মাঠে নামতেই আক্রমণ বেড়েছে নেপালের। অনিতা – সাবিত্রা মিলে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের বক্সেও ঢুকেছেন। অনিতা ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে ঢোকে পড়েন। শামসুন্নাহারকে ফেলে দিয়ে সহজেই বক্সে ঢুকে যান। কোনাকুনি শটে বাংলাদেশের জালে বল জড়ান। মুহূর্তেই মুহুর্মহু করতালিতে যেন আবারও জেগে ওঠে নেপালের দশরথ স্টেডিয়াম। নেপালি দর্শকগণ যেন প্রাণ ফিরে পান। কিন্তু সেই বাধভাঙ্গা উল্লাস আবারও থামিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
নেপাল দলীয় বক্সের সামান্য বাইরে থেকে সাবিনার বাড়িয়ে শটে আবারও বক্সে ঢোকেন কৃষ্ণা। নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা ছাড়া তার সামনে আরও কেউই ছিলোনা। খুব সহজ প্লেসিংয়ে কৃষ্ণা ব্যবধান বাড়ান ৩-১।

নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ঢাকা থেকে আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বদলে যাওয়া বাংলাদেশকেই এবার দেখা যাবে। সেই কথা রেখেছেন তিনি। হিমালয় জয় করে তবেই দেশে ফিরছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল ১৯৯৯ সালে এই নেপালেই প্রথমবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়েছিল। সুদীর্ঘ ২২ বছর পর সেই নেপালেই সেরা হলেন বাংলাদেশের মেয়েরা। হলেন নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন। দেশের জন্য বয়ে আনলেন শিরোপা সহ গৌরবোজ্জ্বল সম্মান।
Leave a Reply