পিত্তথলির পাথর থেকে বাঁচবেন যেভাবে তাই আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু। পিত্তথলি লিভারের একেবারেই নিচে যুক্ত থাকে, যা দেখতে নাশপতি আকৃতির মতো একটি থলে। এটিকেই বলা হয় পিত্তথলি। মানবদেহের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ অরগান লিভারে যে পিত্ত তৈরি হয় সেটি এসে এই পিত্তথলিতে জমা হয়। মানুষ যখন যেকোন ধরনের খাবার গ্রহণ করে, বিশেষ করে চর্বিজাতীয় খাবার খেলে ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে কোলেসিস্টোরাইলিন নামের এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়ে পিত্তথলিতে পৌঁছে পিত্তরস নিঃসরণে উদ্দীপিত করে। আর তখন পিত্তথলি সংকুচিত হয়ে জমানো রস বের করে দেয়। পরে এই রস পিত্তনালি হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে। ক্ষুদ্রান্ত্রে জমানো রস এই খাবার পরিপাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করে।
কারণঃ
পিত্তে পাথর হওয়ার প্রক্রিয়াটি বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন। তবে সর্বজনস্বীকৃত প্রতিক্রিয়াগুলো হলো-
✒️✏️পিত্তরসের মধ্যে কোনো কারণে পিত্ত লবণের মাত্রা কমে গেলে।
✒️✏️ পিত্তরসের মধ্যে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে।
✒️✏️পিত্তথলি পূর্ণমাত্রায় সংকুচিত হতে ব্যর্থ হলে।
প্রতিকারঃ
♦ কায়িক পরিশ্রম করা।
♦ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
♦ প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
♦ চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
♦ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি রাখা।
🍇🍉🍈🍌🍋🍅🍓🍒🍎
চিকিৎসাঃ
যাদের এই রোগের উপসর্গ আছে, তাদের অবশ্যই সার্জারি করিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে সাধারণত ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে (অর্থাৎ পেট না কেটে) শুধু পেট ছিদ্র করে মেশিনের সাহায্যে পিত্তথলির পাথর অপসারণ করা হয়ে থাকে। যাদের উপসর্গ নেই, তাদের সাধারণত কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।
পরামর্শ দিয়েছেন-
ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান
কনসালট্যান্ট (সার্জারি)
শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
মহাখালী, ঢাকা।
Leave a Reply