ছিলেন আসামি হয়েছেন স্বামী ; বর কনের হাতে মেহেদীর রং নয়, বরং বরের হাতে বিয়ের মালার বদলে উঠেছে হাতকড়া। তাও সেটি চট্টগ্রাম আদালতের বারান্দায়। যাচ্ছেন নতুন করে বিয়ের আসরে। বর-কনে দুজনেই আছেন, বাজেনি শুধু বিয়ের সানাই, হয়নি কোনরকমের সাজসজ্জা। এ যেন অন্যরকম এক বিয়ে। হাতকড়া হাতে নিয়েই বিয়ের আসরে বর। যিনি ছিলেন ধর্ষন মামলার আসামি, তিনিই হলেন স্বামী।

একসময় মামলার বাদী শারমিনকে অস্বীকার করে তার স্বামী সাগর। পরে শারমিন আদালতের দ্বারস্থ হন। গ্রেপ্তার করা হয় স্বামী সাগরকে। দু’জনের পারস্পরিক সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়, পুনরায় বৈধভাবে বিয়ে হবে আদালত প্রাঙ্গণে। কিন্তু কাবিনের টাকা নিয়ে এখানেও ঝামেলা বাধে। দু’পক্ষের মাঝেই চলতে থাকে দেন দরবার।

একপর্যায়ে ৪.৫ (সাড়ে চার) লাখ টাকা দেনমোহরে বর-কনের সম্মতিতে নতুন করে আবারো বিয়ে হয়। বিয়ের পর বুধবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঞা আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার শাহাদাত চৌধুরী মামলার পুরো বিষয় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিয়ে শেষে নব দম্পতি ও তাদের সন্তানের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়।

গত ৮ আগস্ট আসামি ও বাদীর বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর আগে চট্টগ্রাম জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেছেন, আসামি সাগরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন বাদীনি শারমিন। আদালতে উপস্থিত হয়ে বাদী শারমিন জানান, সাগরের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। প্রেমের সম্পর্কের কারণে একসঙ্গে থাকতেন তারা। কিন্তু সাগর কাবিন করেননি। একপর্যায়ে দু’জনের মনোমালিন্য ও দূরত্ব বাড়ার কারনে এবং স্বামী সাগর স্ত্রী হিসেবে শারমিনকে মর্যাদা দিতে অস্বীকার করায় বাদিনী চট্টগ্রাম আদালতে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর আসামি সাগর আদালতে হাজির হয়ে জানান, ওই নারীকে তিনি বিয়ে করবেন।
তাদের দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার তো বাবার পরিচয় লাগবে। সে কারণে আদালতকে অনুরোধ করলাম, যেহেতু আসামি ও বাদী বিয়ে করতে চাচ্ছেন, তাদের বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হোক। কাবিন ও ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সকল কার্যাদি সম্পন্ন হওয়ার পরে আসামি সাগরের জামিনের বিষয়টি আদালত বিবেচনা করেছেন। সেই মোতাবেক বিয়ের ও জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। ছিলেন আসামি হয়েছেন স্বামী

Leave a Reply