1. admin@sbcnewsbangla.com : admin : Saimum Hossain Shaan
  2. ssshadheen71@gmail.com : Shadhein Shaan : Shadhein Shaan
রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন
রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন ~ স্পীকার

  • আপডেট টাইম: বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৪৭১ বার
রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন
সংবাদ সম্মেলন করছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। ছবিঃ সংগৃহীত

রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন; জি এম কাদেরকে রওশন এরশাদের স্থানে বিরোধী দলের নেতা করার বিষয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদীয় দলের সিদ্ধান্তটি এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। এ ব্যাপারে চিফ হুইপ মসিউর রহমান (রাঙ্গা) বলেছেন, তিনি রওশন এরশাদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে মোটেও রাজি ছিলেন না। এ বিষয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়ার সময় তিনিও উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

মসিউর রহমান (রাঙ্গা) আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার মসিউরকে জাপার সভাপতিমণ্ডলীসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। আজ তিনি সংবাদ সম্মেলনে তার অব্যাহতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।

জাতীয় পার্টি (জাপার) সংসদীয় দল গত ৩১ আগস্ট রওশনকে বাদ দিয়ে জি এম কাদেরকে বিরোধী দলের নেতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রওশনকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকার দিয়ে রওশনকে সরানোর জন্য জি এম কাদেরকে দোষারোপ করেন। এর পরদিনই দল থেকে তাঁকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন

রওশনকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাঙা বলেন, ‘দেখলাম, চুন্নু সাহেব (জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক) তাড়াহুড়ো করে একটা রেজল্যুশন লিখে নিয়ে আসলেন। উনি আমাকে বললেন, এটা সই করে আপনি স্পিকারের কাছে দিয়ে আসেন। আমি বললাম, আমি তো এই রেজল্যুশনের সঙ্গে একমত না। উনি একটা অসুস্থ মানুষ, আর ক’দিন বাঁচবেন, উনি আসুক। বলল না…এটা…।’

পরবর্তীতে রাঙা নিজেই স্পিকারের কাছে দলের সিদ্ধান্ত পৌঁছান। তিনি বলেন, ‘তারপর আমার সঙ্গে মহাসচিব গেলেন, সঙ্গে আরও কয়েকজন মহিলা (সংসদ সদস্য) ও গেলেন। আমি যখন এটা দিলাম, স্পিকার তখন বললেন, “রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন! উনি আরো কয়টা দিন থাকত, কী এমন অসুবিধা ছিল। দলটা একটা বাজে অবস্থার মধ্যে পড়ে যাবে না?” আমি বললাম, এখানে আসলে কিছু বলার নেই। চিঠিতে সকলেই সাক্ষর করে দিয়েছে, আমাকেও সাক্ষর করে দিতে হবে, এটাই গঠনতন্ত্রের নিয়ম।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন
চৌধুরীর কাছে মসিউরের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। তিনি জাতীয় পার্টির চিঠি পেয়েছেন, সেটা বিবেচনাধীন রয়েছে।

আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) মসিউর রহমান একাই সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলের আর কেউ ছিলেন না। লম্বা বক্তব্য এবং নানা প্রশ্ন-উত্তরে তিনি নানা বিষয়ে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেন। মসিউর পদ–পদবি হারানোর পর গতকাল জি এম কাদেরকে হুমকি দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, তাঁর ( জি এম কাদের) সঙ্গে ‘রংপুরে দেখা হবে’। আর এখন বলছেন, তাঁকে শ্রদ্ধা করেন, এখনো তাঁকে (জাপার) চেয়ারম্যান হিসেবে মানেন। একবার বলছেন, রওশনকে বিরোধী দলের নেতার পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন। আবার বলছেন, এ বিষয়ে রওশন ও কাদের মিলে সিদ্ধান্ত নিক। তবে অব্যাহতি পাওয়ার পর গতকাল যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, আজ সে জায়গা থেকে সরে আসার কথা জানান মসিউর।

বিরোধী দলের নেতার পদ পরিবর্তনের বিষয়ে বর্তমানে তাঁর অবস্থানটা কি, আগের জায়গায় আছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মসিউর রহমান বলেন, ‘আছি, আছি সে জায়গায়ই আছি। আছি মানে আমি বলছি যে, এইটা নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়নি। বাকিটা দেখার দায়িত্ব শিরিন শারমিনের, মাননীয় স্পিকারের।’

জাপার এই নেতা আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি চাই, রওশন এরশাদ দেশে এলে তাঁরা দেবর-ভাবি মিলে বসে ঠিক করেন আমাদের দিক। আমরা দিতে চাই না। তাঁরা দুজনেই কিন্তু পারদর্শী এ বিষয়গুলো নিয়ে। ২০১৪ সালে, ২০১৮ সালে রওশন এরশাদ, তার আগে থেকে এরশাদ সাহেব ও রওশন এরশাদ নির্বাচনের বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন। এরশাদ সাহেব মারা যাওয়া কারণে অবশ্যই রওশন এরশাদ এবং জিএম কাদের সাহেব একসঙ্গে বসে এগুলো করুন, আমরা চাই এটা।’

রওশনকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে একমত না হলে সই দিলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মসিউর বলেন, ‘আমি ওই দিন যদি শক্ত অবস্থান নিতাম, তাহলে নতুন একজন চিফ হুইপ নিয়োগ করে ওনারা তাঁকে দিয়েই রেজল্যুশনটা করাতেন, আমাকে দিয়ে করাতেন না।’ রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন

দলীয় সভার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করে পরে কেন এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললেন, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রওশন এরশাদকে আমি নিজের মায়ের চেয়েও বেশি শ্রদ্ধা করি। রওশন এরশাদ যখন আমাকে বললেন যে, তুমি চিঠি দিয়ে সবাইকে (দলীয় সংসদ সদস্য) ডেকে এনেছ, তুমি তাঁদের সই নিয়েছ, তুমিই রেজ্যুলেশন লিখে সে রেজল্যুশন স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে এসেছো। তখন আমি খুব কষ্ট পেলাম। আমি বললাম, এটা তো আসল ঘটনা না। তখন আমি বলেছি, আমি বাস্তবতাটা টেলিভিশনে বলে দেব।’

জাপা থেকে অব্যাহতির বিষয়ে রাঙা বলেন, ‘আমি থাকি বা না থাকি, আমি বহিষ্কার হই বা দল না করি—আই ডোন্ট বদার। আই অ্যাম নট আনহ্যাপি। আমি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছি, একটু ঘুরতে পারব এখন। আগে তো যেতে পারতাম না কোথাও। গেলে দলের লোকজন আসত, এখন হয়তো একটু ঘুরতে পারব।’

মসিউরকে দল থেকে অব্যাহতি আদেশের পর রংপুরে ( জাপার) দুই অংশের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের জড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, কালকে রাতে দুই পক্ষে মারামারি হয়েছে। মহানগর ও জেলা কমিটির মধ্যে একটা হাতাহাতি-মারামারিও হয়ে গেছে। আহত হয়েছে, মেডিকেল গেছে। এরপর থানায় যাবে, নিহত হবে, মার্ডার কেস হবে। এভাবে চলতে থাকলে দলের গতিটা কি হবে?

নেতা-কর্মীদের মারামারির উসকানি তো আপনার কাছ থেকেই গেছে, আপনি রানিং চেয়ারম্যানকে চ্যালেঞ্জও করেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন – ‘করেছিলাম- আমি কালকেই চ্যালেঞ্জ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমি সমস্ত কর্মীদেরকে নিষেধ করে দিচ্ছি – কেউ যেন আন্দোলন বা কোনো রকম কিছু করতে না যায়।

আর সে রকম কিছু হবে না। আমি আপনাদের কথা দিতে পারি। আমি কালকে একটু রাগান্বিত ছিলাম। আমি অস্বীকার করি না। রাগ হওয়া স্বাভাবিক, আমি ২৭ বছর একটা দল করব, সে দল কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই আমাকে বাদ দিয়ে দেবে, কারও অনুমতি নিয়ে তো দল করতে আসিনি। একটা ন্যূনতম সৌজন্যবোধ তো থাকতে হয়।’

মসিউর বলেন, ‘দলটা যদি সুষ্ঠুভাবে চলে তাহলে আমি জাতীয় পার্টিতে থাকব। না হয় আমি (জাপাতে) থাকবই না। স্বাভাবিক গতিতে যদি দলকে চলতে দেওয়া না হয়, গঠনতন্ত্রে গণতান্ত্রিক ধারার বাধাগুলো যদি পরিবর্তন না হয়, আমি এই দল করব না এবং এর সঙ্গে বলছি অন্য কোনো দলও আর করব না।’

পরবর্তীতে আরো এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার চাই। তবে না দিলেও আমার কোনো দুঃখ নেই।’

জি এম কাদেরের নাম উল্লেখ না করে মসিউর বলেন, ‘তিনি সম্পর্কে আমার আত্মীয়। আমি তাঁকে অনেক শ্রদ্ধা করি, কিন্তু তিনি কেন এটা (অব্যাহতি) করলেন, আমি বুঝতে পারলাম না। এই দুঃখটা প্রকাশ করার জন্য এবং আমি যে অন্যায় করিনি—এ কথাটা বলার জন্য আজকে শুধু এখানে এসেছি।’

জাতীয় পার্টি (জাপা) তার গণতান্ত্রিক ধারায় চলছে না বলে দাবি করে বলেন, এবার যদি দল ভাগ হয়, জাতীয় পার্টি ৮ বার ভাঙবে। এবার ভাঙলে দল আর থাকবে না। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই কিন্তু দুটির বেশি দল নেই এবং সে দেশগুলো অনেক ভালো চলে। আমার মনে হয় যে আগামী দিনে এই দুটি দল ছাড়া আর কোনো দল থাকবে না। কোন দুটি দল আমি তা বলব না। কিন্তু সেই দুটির মধ্যে আমরা নেই। সুতরাং দলটা যদি এভাবে পরিচালিত হতেই থাকে, তাহলে একটা স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে দলটা চলে যাবে।’

জাতীয় পার্টি কি তাহলে স্বৈরতান্ত্রিক দল? এমন প্রশ্নের জবাবে মসিউর বলেন, ‘স্বৈরতান্ত্রিক কিনা আমি তা বলব না, আমি বলব দলটি গণতান্ত্রিক না। ওনার (জি এম কাদের) সঙ্গে কিছু লোক আছে, যারা মৌমাছির মতো তার চারপাশে সারাক্ষণ ঘোরে। সারা দিন ওনাকে কুপরামর্শ দিতেই থাকে, উনি হয়তো রাগ করে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। আমি ওনার দোষ দেই না কোনো সময়ই। আমি উনাকে চেয়ারম্যান মানি এবং এখন পর্যন্ত মানি।’

স্যোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

One response to “রাঙ্গা ভাই এটা কি দিলেন ~ স্পীকার”

  1. Very interesting info !Perfect just what I was looking for! “Being rich is having money being wealthy is having time.” by Margaret Bonnano.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © sbcnewsbangla.com
Theme Customized By BreakingNews