১৯৭১ সাল। সদ্য কৈশোর পার করা টগবগে তরুণ এবায়দুল্লাহ দেশমাতৃকার টানে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য যুদ্ধাহতদের তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কেউ আহত হয়েছেন শুনলেই দ্রুত ছুটে যান তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করতে। গরীবের ডাক্তার এবায়দুল্লাহ
আহত ব্যক্তিকে সুস্থ করে তোলার প্রাণান্ত চেষ্টা করেন ডাক্তার এবায়দুল্লাহ। তরুণ বয়সের সেই প্রাণান্তকর চেষ্টা, মানবসেবার সেই সুমহান মানসিকতা আজও তাঁর হৃদয়ে ধারণ ও লালন করে চলেছেন তিনি।
ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া জীর্ণশীর্ণ মানুষগুলোই তাঁর রোগী। সাতক্ষীরা এলাকার মানুষের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় এই লোকটি “গরিবের ডাক্তার”, কারও কাছে আবার “১০ টাকার ডাক্তার” হিসেবেও অধিক সুপরিচিত। তাঁর নাম ডাক্তার এবায়দুল্লাহ। সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় তাঁর বসবাস।
অতিশয় ভদ্র ও বিনয়ী হিসেবেও তাঁর সুখ্যাতি রয়েছে। চাকুরীকালীন কিংবা ব্যক্তিজীবনে কখনো কারও সঙ্গে উচ্চ স্বরে কিংবা ধমকের সুরে কথা বলেননি তিনি। এমনকি কারও সঙ্গে কোনরকম বিরোধে জড়াননি।
অঢেল সম্পদ কিংবা বিত্তবৈভব নয়, চিকিৎসা সেবা প্রদান করে পাওয়া মানসিক তৃপ্তিটাই তাঁর কাছে অনেক বড়। খুব বেশি কিছু চাওয়া নেই তাঁর। সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল মোড়ে নবাব ক্লিনিকে তাঁর চেম্বার। এটি তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র হাফ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় রোজ দুবেলা পায়ে হেঁটেই আসা-যাওয়া করেন তিনি। গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী দেখেন প্রতিদিন।
দাদার থেকে অনুপ্রেরণাঃ
অল্প বয়স থেকেই নানারকম সামাজিক কাজের সঙ্গে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রেখেছিলেন এবায়দুল্লাহ। তাঁর দাদা মরহুম নবাব আলী সরদারও নানারকম সামাজিক কাজ করতে পছন্দ করতেন। এলাকার মানুষ কিংবা আত্মীয়স্বজনদের বিপদে-আপদে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।
মরহুম দাদার খুব ইচ্ছা ছিল, তিনি (এবায়দুল্লাহ) যেন চিকিৎসক হয়ে এলাকার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে পাশে দাঁড়ান। দাদার ইচ্ছাকে পূরণ করতে তিনি মেডিকেলে ভর্তি হয়ে এমবিবিএস পাস করে ডাক্তার হন। ১৯৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল মোড়ের ঐ চেম্বারে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
একটা সময়ে তিনি উপলব্ধি করেন, অনেক রোগী চিকিৎসকের ফি দিতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী কিনতে পারেন না। তাই তিনি নিজের ফি নির্ধারণ করেন মাত্র ৫ টাকা। মরহুম দাদার নামানুসারে প্রতিষ্ঠানের নাম দেন নবাব ক্লিনিক।
সেই ১৯৮০ সাল থেকে নিয়ম করে প্রতিদিন বেলা সাড়ে তিনটা থেকে তাঁর নবাব ক্লিনিকের চেম্বারে বসে রোগী দেখেন। তিনি চাকুরী থেকে অবসরে যান ২০১০ সালে। এরপর থেকে সকাল-বিকেল দু’বেলা রোগী দেখা শুরু করেন। একসময় ৫ টাকার ফি বাড়িয়ে ১০ টাকা করেন।
ফি বাড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাঁর নবাব ক্লিনিকে নার্স ও তাঁর সহকারী মিলিয়ে মোট ৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। ক্লিনিকের ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। তাছাড়া বেশ ক’বছর যাবত ৫ টাকার চলও উঠে গেছে। ৫ টাকা লেনদেনেও বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এসব বিবেচনায় তিনি ফি বাড়িয়ে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা করেছিলেন।
কোন রোগী ফি দিতে না পারলেও চিকিৎসা সেবা দেন এবায়দুল্লাহ। কর্মচারীদের বেতন, ক্লিনিকের নানাবিধ খরচ মেটান কীভাবে এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রোগনির্ণয়ের জন্য হাতেগোনা কয়েকটি যন্ত্রপাতি আছে তাঁর ক্লিনিকে। রয়েছে ইসিজির ব্যবস্থাও।
রোগীরা নামমাত্র মূল্যে এসকল যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন এখানে। এসব পরীক্ষা – নীরিক্ষার মাধ্যমে আসা টাকার পুরোটা দিয়ে তিনি কর্মীদের ব্যয় নির্বাহ করেন। এখান থেকে নিজে কিছুই নেন না।
নবাব ক্লিনিকে একবেলাঃ
‘জনতার ডাক্তার’ এবায়দুল্লাহর চেম্বার দেখতে ২ নভেম্বর দুপুর ৩টার দিকে হাজির হই নবাব ক্লিনিকে। চেম্বারে ১০-১২ জন রোগী বসে ছিলেন। হাসিমুখে রোগীদের নানারকম রোগ-শোকের কথা জানতে চাচ্ছেন এবায়দুল্লাহ। কারও কারও বাড়ির খোঁজখবরও নিচ্ছেন তিনি। প্রেসক্রিপশন লেখার পর একজন সেবিকা রোগীদের সেটি ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন। তাঁর টেবিলের ওপর ১০ টাকা করে রেখে চলে যান রোগীরা।
বেশ কয়েকজন রোগী দেখার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই। তিনি বলেন, এখানে সবাই আমাকে গরিবের ডাক্তার বলেই চেনে। কেউ কেউ ভালোবেসে ১০ টাকার ডাক্তারও বলে। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ জন রোগী দেখা হয়ে গেছে।
কথা হয় আলীপুর এলাকার ফরিদা বেগমের সঙ্গে। তিনি একজন গৃহিণী। নানাবিধ শারীরিক সমস্যা নিয়ে এখানে এসেছেন। ফরিদা বলেন, “হাসপাতালে গেলে ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতি হয়। তারপর ডাক্তার কখন আসপে, তার ঠিক-ঠিকানা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসি থাকতি হয়। তার চেয়ে এবায়দুল্লাহ ডাক্তারই আমাগো জন্যি ভালো। ১০ টাকা ফি’তে আমাগো চিকিৎসা করে”
শহরের মুনজিতপুর এলাকার রিকসা চালক রবিউল মিয়া এসেছেন হাঁপানি, সর্দি, কাশি ও জ্বর নিয়ে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবত তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের এখানেই চিকিৎসা করান। ৬০০-৭০০ টাকা ফি দিয়ে বড় ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য তাঁদের নেই। তাই এখানেই তাদের শেষ ভরসা।
For the reason that the admin of this site is working, no uncertainty very quickly it will be renowned, due to its quality contents.
এমন জনদরদী গুটিকয়েক ডাক্তার এদেশে আছে বলেই এখনো চিকিৎসা খাত সচল রয়েছে। নইলে এদেশের মানুষ চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতো।
I have been exploring for a little for any high quality articles or weblog posts on this kind of area . Exploring in Yahoo I eventually stumbled upon this site. Reading this info So i am satisfied to express that I’ve a very just right uncanny feeling I came upon exactly what I needed. I such a lot definitely will make sure to don’t omit this site and give it a look regularly.