রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের যোগাযোগের একমাত্র সেতু কার্চ ব্রিজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে ওই সেতু দিয়ে চলাচলরত একটি তেলবাহী ট্রেনে আগুন ধরে যায়, ফলে সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে। আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬ ঘটিকার দিকে ভয়াবহ বিস্ফোরণটি ঘটে। খবর এএফপির
রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। পরে একটি গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে এই অঞ্চলটিকে অঙ্গীভূত করা হয়। তারপর ক্রিমিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি উদ্বোধন করেছিলেন। বর্তমানে ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের কাছে যাবতীয় সামরিক রসদ পাঠানোর জন্য এই সেতুর ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
কার্চ ব্রিজে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে সেতুর মধ্যে আগুন জ্বলতে এবং এর কিছু অংশ পানির মধ্যে ঝুলতে দেখা গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেতুর ধ্বংস হওয়া অংশের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন।

সেতুতে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের পর নড়েচড়ে বসেছে মস্কোও। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিস্ফোরণস্থলে পাঠানো হয়েছে।তবে মস্কো এখনো ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের জন্য কিয়েভের ওপর দায় চাপায়নি।
এদিকে কার্চ ব্রিজে বিস্ফোরণের পর ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার নিযুক্ত এক কর্মকর্তা ইউক্রেনের দিকে আঙুল তুলেছেন। খেরসনের রুশপন্থী এক কর্মকর্তা বলেছেন, বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি মেরামত করতে প্রায় ২ মাস সময় লাগতে পারে। এদিকে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের পর কিয়েভের প্রতিক্রিয়া তাদের ‘সন্ত্রাসী চরিত্রই’ তুলে ধরেছে।
Leave a Reply