উত্তরায় গার্ডার দূর্ঘটনা নবদম্পতি ; ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় কবলিত গাড়িতে ছিলেন নবদম্পতি ও তাদের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন। নবদম্পতির বৌভাতের অনুষ্ঠানে শেষে ফিরছিলেন তারা। কিন্তু একসাথে কাটানো আনন্দময় মূহুর্ত হঠাৎই রূপ নিলো স্বজন হারানোর বিষাদে। নিহতদের আত্মীয় স্বজনদের আহাজারিতে এখন ভারী হয়ে আছে উত্তরার জসীমউদ্দিন অ্যাভিনিউ।

আজ সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার উত্তরায় বাস র্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ০২ জন। আহত হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১) হচ্ছেন নবদম্পতি। তারা বসেছিলেন প্রাইভেটকারের পেছনের সিটে।

এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহসিন। নিহতরা হলেন রুবেল (৫০), ঝর্ণা (২৮), জান্নাত (৬) ও জাকারিয়া (২)। জান্নাত ও জাকারিয়ার মা হচ্ছেন নিহত ঝর্ণা।

জানা গেছে, শরিয়তপুর সদরের ঢালী বাজার এলাকার বাসিন্দা ও আহত হৃদয়ের বাবা মো. রুবেল (বর্তমান ঠিকানা- কাওলা) গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গত শনিবার হৃদয়-রিয়ামনির বিয়ে হয়েছে। আজ কাওলায় হৃদয়দের বাড়িতে ছিল বৌভাতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে নিজেই গাড়ি চালিয়ে তাদের আশুলিয়ার খেজুরবাগানে রিয়াদের বাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয় ও রিয়ামনি এখন ক্রিসেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে যোগ দিতে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও র্যাব। উত্তরায় গার্ডার দূর্ঘটনা
উত্তরায় ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জন যাত্রী নিহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দূর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হৃদয়ের স্বজনেরা জানান, গত শনিবার হৃদয় ও রিয়ার বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। আজ তাঁরা ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন। দক্ষিণখান থানার কাওলা এলাকাধীন আফিল মেম্বারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন হৃদয়ের পরিবার।
আর কনে রিয়া মনির বাড়ি আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকাধীন আসরাফউদ্দিন নামক চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।
সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া হৃদয়ের চাচাতো ভাই রাকিব (১৯) জানান, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তারা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পান। কিন্তু এতো দীর্ঘসময় পার হওয়ার পরেও গাড়ি থেকে মরদেহগুলো বের করতে পারেননি উদ্ধারকারী দল।
প্রাইভেট কারের ভেতরে যদি কেউ বেঁচে থেকেও থাকেন তাহলে এতোক্ষণে মারা গেছেন। রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার কীভাবে এতো অব্যবস্থাপনার মধ্যে কাজ করছে? কার কাছে বিচার দিব আমরা? গাড়ি থেকে অন্তত লাশগুলো বের করে দিক। কিন্তু এখানে তো কোনো উন্নত যন্ত্রপাতিও নেই।’
দুর্ঘটনাস্থলে হৃদয়ের স্বজনেরা আসছেন। তাদের আহাজারিতে উত্তরার আকাশ- বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের কাছে থাকা লিভার দিয়ে ক্রেন থেকে ছিটকে পড়া গার্ডার উঁচু করে তুলে গাড়ি বের করে আনার চেষ্টা করছেন। তবে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অব্যাহত চেষ্টায়ও গার্ডার সরাতে পারেনি। এখন দূর্ঘটনাস্থলে বড় ক্রেন আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

I couldn’t resist commenting