আজ শুক্রবার (৭ অক্টোবর ২০২২) থেকে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। ইলিশ মাছের প্রজনন রক্ষায় আজ থেকে ইলিশ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

চাঁদপুর জেলাধীন পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকেই ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। উক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময়কালে মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে।
একটানা ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য চাঁদপুর জেলার ৪৪ হাজার ৩৫ জন জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হবে।
ইলিশের প্রধান প্রজননকালীন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানামুখী অভিযান পরিচালিত হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গত বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে প্রতিবারের ন্যায় এই বছরেও জেলেদের জন্য ভিজিএফের চালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্বের চালের পরিমাণ ২০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২৫ কেজি করা হয়েছে। ১৫৫টি উপজেলায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৭টি জেলে পরিবারকে ১৩ হাজার ৮৭২ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ইলিশ শিকার সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকবে। উক্ত সময়কালে এই দুই নদীতে জেলা প্রশাসন, জেলা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশ পৃথকভাবে তাদের নিজ নিজ অভিযান পরিচালনা করবে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান জানান, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারের ইতিবাচক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে জেলা টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদি ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে ইলিশ শিকার করেন, তাহলে এক থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, সাধারণত ইলিশ সাগরের মাছ হলেও ডিম ছাড়ার সময়ে উপকূলীয় মোহনার নদ-নদী ও পদ্মা-মেঘনায় চলে আসে।
প্রতি বছরই অক্টোবর মাসের আশ্বিন কিংবা অমাবস্যার এই সময়টাকেই ইলিশ প্রজননের জন্য বেছে নিয়ে থাকে। ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ নিরাপদভাবে ডিম ছেড়ে যেতে পারলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ উৎপাদন বজায় থাকবে। এতে করে ইলিশ মাছের উৎপাদন প্রতি বছরে বাড়বে ৬ লাখ টন।
Leave a Reply